অতিরিক্ত যৌনচাহিদা স্বাভাবিক নাকি অস্বাভাবিক? | Excessive sexual desire | Banglavision TV

অতিরিক্ত যৌনচাহিদা স্বাভাবিক নাকি অস্বাভাবিক? | Excessive sexual desire | Banglavision TV 



অতিরিক্ত যৌনচাহিদা (Hypersexuality) কখনো স্বাভাবিক হতে পারে, আবার কখনো মানসিক ও শারীরিক স্বাস্থ্যের সমস্যার ইঙ্গিতও দিতে পারে। এটি নির্ভর করে পরিস্থিতি, ব্যক্তি বিশেষের মানসিক অবস্থা, এবং সামাজিক প্রভাবের ওপর। নিচে বিষয়টি বিস্তারিতভাবে ব্যাখ্যা করা হলো:

স্বাভাবিক যৌনচাহিদা

  • ব্যক্তিভেদে পার্থক্য: মানুষের যৌনচাহিদা একেক জনের ক্ষেত্রে একেক রকম হতে পারে। কারও যৌন আকাঙ্ক্ষা তুলনামূলক বেশি হওয়াটা অস্বাভাবিক নয়।
  • জীবনের বিভিন্ন পর্যায়ে পরিবর্তন: হরমোন পরিবর্তনের কারণে কৈশোর বা যৌবনে যৌনচাহিদা বৃদ্ধি পেতে পারে, যা স্বাভাবিক।
  • সম্পর্কের প্রভাব: ভালো মানসিক সম্পর্ক থাকলে যৌন আকাঙ্ক্ষা বাড়তে পারে।

অস্বাভাবিক যৌনচাহিদা বা হাইপারসেক্সুয়ালিটি

যদি যৌনচাহিদা অতিরিক্ত বেড়ে যায় এবং তা ব্যক্তির দৈনন্দিন জীবন, সম্পর্ক, বা কাজের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলে, তখন এটি সমস্যার লক্ষণ হতে পারে।



সম্ভাব্য কারণ:

  • মানসিক স্বাস্থ্য সমস্যা: হতাশা, উদ্বেগ, বা বাইপোলার ডিসঅর্ডারের কারণে যৌন আকাঙ্ক্ষা বেড়ে যেতে পারে।
  • নেশা বা আসক্তি: যৌন আসক্তি (Sex addiction) বা পর্নোগ্রাফিতে আসক্তির কারণেও এটি হতে পারে।
  • ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া: কিছু ওষুধ, যেমন ডোপামিনের ওপর কাজ করে এমন ওষুধ যৌনচাহিদা বাড়াতে পারে।
  • ট্রমা বা অতীত অভিজ্ঞতা: অতীতের ট্রমা বা মানসিক আঘাতের ফলে কেউ যৌন আচরণে অতিরিক্ত আগ্রহী হয়ে উঠতে পারে।

কীভাবে বুঝবেন এটি সমস্যা কিনা?

  • নিয়ন্ত্রণের অভাব: নিজের যৌনচাহিদা নিয়ন্ত্রণ করতে না পারা।
  • সম্পর্ক ও কাজের ক্ষতি: সম্পর্ক বা কর্মজীবনে সমস্যা তৈরি করা।
  • অন্য কাজে আগ্রহ হারানো: যৌনতা ছাড়া অন্য কোনো কাজে মনোযোগ দিতে না পারা।
  • অসুস্থতা বা অপরাধমূলক আচরণ: অসঙ্গতিপূর্ণ বা ঝুঁকিপূর্ণ যৌন আচরণে জড়িয়ে পড়া।


সমাধান ও করণীয়

যদি মনে হয় যৌনচাহিদা অত্যধিক এবং তা জীবনকে নেতিবাচকভাবে প্রভাবিত করছে, তবে বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া জরুরি। সাইকোথেরাপি, কগনিটিভ বিহেভিয়ারাল থেরাপি (CBT), এবং প্রয়োজনমতো ওষুধের সাহায্যে এর সমাধান হতে পারে।


সিদ্ধান্ত: অতিরিক্ত যৌনচাহিদা স্বাভাবিক না অস্বাভাবিক, তা নির্ভর করে সেটি কতটা নিয়ন্ত্রণে রয়েছে এবং তা জীবনের অন্যান্য ক্ষেত্রে কী ধরনের প্রভাব ফেলছে তার ওপর। প্রয়োজনবোধে মানসিক স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়াই উত্তম।






Similar Videos

0 comments: